বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুর ভিসা আবেদন
বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে কাজের ভিসা Work Visa / Work Permit / Employment Pass পেতে হলে কিছু নির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করতে হয়। নিচে বিস্তারিত প্রসেসিং গাইডলাইন দিলাম:
সিঙ্গাপুরে কাজের ভিসার ধরন
- Employment Pass EP
- যারা প্রফেশনাল চাকরি (ইঞ্জিনিয়ার, আইটি, ডাক্তার, শিক্ষক ইত্যাদি) পান।
- ন্যূনতম বেতন সাধারণত SGD 5,000+ (পদের উপর নির্ভর করে)।
- S Pass
- মাঝারি দক্ষতার চাকরি (টেকনিক্যাল, সুপারভাইজার, হেলথকেয়ার সাপোর্ট ইত্যাদি)।
- ন্যূনতম বেতন SGD 3,000+।
- Work Permit WP
- কম দক্ষতা বা শ্রমিক শ্রেণির চাকরি (কনস্ট্রাকশন, শিপইয়ার্ড, ম্যানুফ্যাকচারিং, মেইড ইত্যাদি)।
- এই ভিসা সরাসরি সিঙ্গাপুরের কোম্পানি / লাইসেন্সধারী এজেন্টের মাধ্যমে হয়।
ভিসা প্রসেসিং ধাপ
- *চাকরি পাওয়া*
- সিঙ্গাপুরে কাজের ভিসা শুধুমাত্র চাকরির অফার পাওয়ার পর করা যায়।
- অর্থাৎ *কোম্পানি / নিয়োগকর্তা আপনাকে স্পন্সর করবে*।
- *নিয়োগকর্তার আবেদন*
- নিয়োগকর্তা (Employer) সিঙ্গাপুরের *Ministry of Manpower (MOM)*-এ আপনার পক্ষে ভিসার জন্য আবেদন করে।
- *ভিসা অনুমোদন (In-Principle Approval – IPA)*
- MOM থেকে ভিসার অনুমোদন লেটার (IPA) আসে।
- এটি নিয়োগকর্তা আপনাকে পাঠাবে।
ভিসা স্ট্যাম্পিং ও ভ্রমণ
- IPA লেটার নিয়ে বাংলাদেশে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনে (ঢাকা) বা অনলাইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভিসা স্ট্যাম্প করতে হয়।
- এরপর সিঙ্গাপুরে প্রবেশ করে মেডিকেল টেস্ট পাস করতে হয়।
- Work Permit / Pass কার্ড সংগ্রহ
- মেডিকেল ক্লিয়ার হওয়ার পর MOM থেকে আপনার Work Permit / EP / S Pass কার্ড ইস্যু করা হয়।
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস
- বৈধ পাসপোর্ট (৬ মাসের বেশি মেয়াদ থাকতে হবে)
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- চাকরির অফার লেটার / কন্ট্রাক্ট
- শিক্ষাগত সনদপত্র (EP/S Pass-এর জন্য)
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স (কিছু ক্ষেত্রে)
- মেডিকেল টেস্ট রিপোর্ট
খরচ ও সময়
- ভিসা ফি সাধারণত ৩০ – ১০৫ SGD (ভিসার ধরন অনুযায়ী ভিন্ন)।
- প্রসেসিং টাইম: সাধারণত ১–৩ সপ্তাহ।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে *নিজে ভিসা আবেদন করা যায় না*, শুধুমাত্র নিয়োগকর্তা বা MOM অনুমোদিত এজেন্ট করতে পারে। অনেক ভুয়া এজেন্সি টাকা নিয়ে প্রতারণা করে, তাই *MOM অনুমোদিত এজেন্ট* বা সরাসরি কোম্পানির মাধ্যমে আবেদন করাই নিরাপদ। অফিসিয়াল তথ্য সবসময় পাওয়া যাবে [Singapore MOM website mom gov sg
সিঙ্গাপুর ভিসা কত প্রকার?
মোটামুটি ভাগ করলে সিঙ্গাপুর ভিসার ধরন হলো –
- কাজের ভিসা (Work Pass)
- ভ্রমণ ভিসা (Visit/Tourist Visa)
- শিক্ষা ভিসা (Student Pass)
- ডিপেনডেন্ট/ফ্যামিলি ভিসা
- স্থায়ী বসবাস (PR)
বাংলাদেশে সিঙ্গাপুর ভিসা এজেন্টদের লিস্ট
WORKPASS PTE LTD
MOM EA রেজিস্ট্রেশন: R1150861, লাইসেন্স: 21C0833 — সূচীপত্রভুক্ত, ২০১১ সাল থেকে কাজ করছে
Employment Hub International Agency
MOM লাইসেন্স নম্বর: 24C2159; দক্ষতার সাথে উত্তর দেওয়া এবং সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন সেক্টরে কাজের পাস প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে
Manpower Singapore
যদিও MOM-অনুমোদনের বিস্তারিত লিস্টে সরাসরি না পাওয়া গেলেও, এটি একটি বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান
Singapore Bangladesh Services
BAIRA-এর RL নং: 561; ঠিকানা: ভিন্ন, ঢাকা ওয়েবসাইটে বিস্তারিত ও যোগাযোগ তথ্য পাওয়া যায়
সিঙ্গাপুর ভিসা কিভাবে যাচাই করব?
- MOM (Ministry of Manpower) – Work Pass যাচাই
- ওয়েবসাইট: MOM Work Pass Status Check
- এখানে যাচাই করতে পারবেন:
- Employment Pass (EP)
- S Pass
- Work Permit
- Training Pass / Other Work Pass
যা লাগবে:
- FIN নম্বর (Foreign Identification Number) অথবা
- ফলাফল আসবে:
- ভিসা বৈধ কিনা
- কখন ইস্যু হয়েছে
- মেয়াদ কবে শেষ হবে
সিঙ্গাপুরের জন্য কোন ভিসা ভালো?
যদি শুধু শ্রমিক কাজ করতে চান → Work Permit যথেষ্ট।
যদি প্রফেশনাল ক্যারিয়ার / ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে থাকতে চান → Employment Pass সবচেয়ে ভালো।
সিঙ্গাপুর বেতন কত?
ন্যূনতম বেতন সাধারণত SGD 5,000+ (পদের উপর নির্ভর করে)।
মাঝারি দক্ষতার চাকরি (টেকনিক্যাল, সুপারভাইজার, হেলথকেয়ার সাপোর্ট ইত্যাদি)।
ন্যূনতম বেতন SGD 3,000+।
সিঙ্গাপুর যেতে কত টাকা খরচ হয়?
- ভিসা ফি সাধারণত ৩০ – ১০৫ SGD (ভিসার ধরন অনুযায়ী ভিন্ন)।
- প্রসেসিং টাইম: সাধারণত ১–৩ সপ্তাহ।
- অন্যান্য খরচ
- Medical check-up: SGD 40–80 (≈ 3,500–7,000 টাকা, সিঙ্গাপুরে গিয়ে করতে হয়)
- Security Bond / Insurance: Work Permit-এর জন্য Employer জমা দেয় (SGD 5,000, কিন্তু কোম্পানি দেয়, শ্রমিক নয়)
- Service Charge / এজেন্ট ফি: বাংলাদেশে অনেক এজেন্সি বাড়তি টাকা নেয় (৫০,০০০–৩,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত, চাকরির ধরণ অনুযায়ী)। এটা সরকারি ফি নয়, বরং এজেন্ট ফি।



