বাংলাদেশ থেকে গ্রিসের প্রসেসিং Greece Visa Processing in Bangladesh

বাংলাদেশ থেকে গ্রিসের কাজের ভিসা (Work Visa / National “D” Visa) প্রসেসিংটা নিচে বাস্তবসম্মত ও ধাপে-ধাপে বুঝিয়ে দিচ্ছি ।(এটা Schengen টুরিস্ট ভিসা নয় এটা লং-টার্ম ওয়ার্ক ভিসা) বাংলাদেশে ইউরোপের ভিসা সেন্টার না থাকায় বাংলাদেশি নাগরিককে অনেক অসুবিধায় পড়তে হয় । পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে ভিসার জন্য আবেদন করতে হয় যা অনেক ব্যয়বহুল ও কষ্টকর এবং ভিসা প্রসেসিং করতে অনেক সময় লাগে এবং কিছু কিছু সময় আবেদন বাতিল হয়ে যায়। এই পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পরলে গ্রিসের ভিসা প্রসেসিং ও আবেদনের সকল তথ্য জানতে পারবেন।

গ্রিসের কাজের ভিসা কী?
গ্রিসে কাজ করতে হলে আপনাকে নিতে হবে
National Long-Stay Visa (Type D Employment)
এরপর গ্রিসে গিয়ে Residence Permit নিতে হয়।

পুরো প্রসেস সংক্ষেপে
চাকরি আগে নিশ্চিত হতে হবে
গ্রিসে Work Permit অনুমোদন
বাংলাদেশ থেকে D-Visa আবেদন
গ্রিসে গিয়ে Residence Permit

গ্রিসের কাজের ভিসা প্রসেসিং ধাপগুলো হলো
প্রথম ধাপ
১. গ্রিসে চাকরি নিশ্চিত করা (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)
২.গ্রিসের কোনো কোম্পানির Job Offer / Contract
৩.নিয়োগকর্তা গ্রিসের Ministry of Migration & Asylum এ আপনার নামে
৪.Work Permit / Employment Approval আবেদন করবে

দ্বিতীয় ধাপ Work Permit অনুমোদন
১.গ্রিস সরকার আপনার কাজের কোটা, পেশা ও কোম্পানি যাচাই করে
২.অনুমোদন হলে একটি Approval Letter / Decision ইস্যু হয়
৩.এই ডকুমেন্টটি ভিসার মূল চাবি
৪. সময় লাগে: সাধারণত ১–৩ মাস (কখনো বেশি)

তৃতীয় ধাপ বাংলাদেশ থেকে গ্রিস Work Visa (D-Visa)
বাংলাদেশে গ্রিসের নিজস্ব এম্বাসি নেই। সাধারণত আবেদন প্রসেস হয় গ্রিস এম্বাসি, নয়াদিল্লি (India) এর মাধ্যমে (অনেক সময় ঢাকার ভিসা সেন্টার কাগজ সংগ্রহ করে ফরোয়ার্ড করে)

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস:
১.পাসপোর্ট (কমপক্ষে ১ বছর বৈধ)
২. গ্রিস কোম্পানির Job Contract
৩.Work Permit Approval Letter
৪.পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট
৫.মেডিকেল রিপোর্ট
৬. ভিসা আবেদন ফরম (National D)
৭.পাসপোর্ট সাইজ ছবি
৮. ভিসা ফি

সব ডকুমেন্ট ইংরেজি বা গ্রিক ভাষায় বাংলা হলে অনুবাদ + নোটারাইজ

চতুর্থ ধাপ ইন্টারভিউ (প্রয়োজনে)
কিছু ক্ষেত্রে এম্বাসি ইন্টারভিউ নেয় প্রশ্ন সাধারণত:
১.কী কাজ করবেন?
২.কোম্পানির নাম?
৩.আগে ইউরোপ গেছেন কিনা?

পঞ্চম ধাপ ভিসা সিদ্ধান্ত
সময় লাগে: সাধারণত ৩–৬ সপ্তাহ পাসপোর্টে National D Visa লাগানো হয়। আপনি গ্রিসে প্রবেশ করতে পারবেন

গ্রিসে যাওয়ার পর (খুব গুরুত্বপূর্ণ) তথ্য
গ্রিসে পৌঁছানোর ৩০ দিনের মধ্যে স্থানীয় অফিসে আবেদন করতে হবে Residence Permit (Work Purpose) এটা না করলে ভবিষ্যতে সমস্যা হবে।

গ্রিসে সাধারণত এই সেক্টরে বিদেশি কর্মী নেয়:
১.হোটেল / রেস্টুরেন্ট / কিচেন হেল্পার
২.কনস্ট্রাকশন / লেবার
৩.এগ্রিকালচার / ফার্ম ওয়ার্ক
৪.কেয়ারগিভার
৫.ফ্যাক্টরি ওয়ার্কার

সতর্কতা (খুব জরুরি)
টুরিস্ট ভিসা দিয়ে গিয়ে কাজ করব” অবৈধ ভুয়া অফার লেটার / দালাল ডিপোর্ট + ব্যান সবসময় Work Permit আগে নিশ্চিত করুন।

মোট সময় ও খরচ (আনুমানিক)
মোট সময়: ৩–৬ মাস । ভিসা ফি + ডকুমেন্ট +
মেডিকেল: পরিবর্তনশীল ।চাকরির খরচ কোম্পানি অনুযায়ী ভিন্ন

গ্রিস ভিসা প্রশ্ন উত্তর FAQ (বাংলাদেশ)
প্রশ্ন ১.গ্রিসে কয় ধরনের ভিসা চালু আছে?
টুরিস্ট/ভ্রমণ ভিসা (Short-stay / Schengen C Visa)
পরিবার/বন্ধু দেখা
ব্যবসা/বিজনেস ভিসা
ছাত্র/শিক্ষার্থী ভিসা
কর্মসংস্থান/ওয়ার্ক পারমিট (যা আলাদা প্রক্রিয়া)

প্রশ্ন ২.গ্রিস ভিসা প্রসেসিং টাইম কত?
সাধারণত ১৫–৩০ কার্যদিবস
কখনো কখনো ৪৫ দিনও লাগতে পারে।

প্রশ্ন ৩.গ্রিস ভিসা কোথায় আবেদন করতে হয়?
ঢাকায় VFS Global (Greece) ভিসা সেন্টারের মাধ্যমে আবেদন করা হয়।এম্ব্যাসিতে সরাসরি নয়।

Leave a Comment